জাতীয় সংবাদ

*দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবেঃফকরুল* সংলাপ ভাল হয়েছে, আমরা আশাবাদীঃড.কামাল*

।।দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবেঃফকরুল।। সংলাপ ভাল হয়েছে, আমরা আশাবাদী।।
।।দিঘলিয়াওয়েবব্লগ২৪ রিপোর্ট।।

————————————————————-

০২ নভেম্বর, ২০১৮ ইং ০৪:৩৫ মিঃ

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের দলের সঙ্গে রাতে সাড়ে তিন ঘণ্টারও বেশি যে সংলাপে হয়েছে তাতে বিশেষ কোন সমাধান পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন গণফোরাম সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের মূল উদ্যোক্তা ড. কামাল হোসেন।

তিনি বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে গণভবনে গিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমাদের সংলাপ ছিল। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার মতো আমরা সেখানে ছিলাম। আমাদের নেতারা সবাই বক্তব্য দিয়েছেন। তারা তাদের নানা ধরনের অভিযোগের কথা বলেছেন। সরকারের বিভিন্ন বিষয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।

এরপর প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দিয়েছেন। তবে বিশেষ কোনো সমাধান আমরা পাইনি। কেবল সভা-সমাবেশের বিষয়েই তিনি একটি ভালো কথা বলেছেন। এটা হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোর সভা সমাবেশে কোথাও কোনো বাধা থাকবে না আমাদের জানানো হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে নির্দেশও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ড. কামাল হোসেন বলেন, আমরা ৭ দফা দাবি প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছি। তিনি আমাদের কথা শুনেছেন, তবে সুনির্দিষ্টভাবে তিনি কিছু বলেননি। তবে তিনি বলেন, সংলাপ ভালো হয়েছে, আমরা আশাবাদী। প্রধানমন্ত্রী তার কথা বলেছেন। আমরা তার কথা শুনেছি। পরবর্তীতে আরো আলোচনা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

সংলাপের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন, খালেদা জিয়ার মামলা প্রত্যাহার ও তার মুক্তির বিষয়ে সংলাপে আলোচনা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে আমাদের স্পষ্ট কিছু বলেননি। এতে আমরা হতাশ হয়েছি। ফখরুল বলেন, সংলাপের বিষয়ে আমি সন্তুষ্ট নই। তবে আমাদের আলোচনা চলতে পারে। আমরা তফসিলের বিষয়ে কথা বলেছিলাম। তফসিল যাতে সময় নিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তফসিল দেওয়ার বিষয়টি সরকারের নয়। এটি নির্বাচন কমিশন দেখবে। আমরা আন্দোলন অব্যাহত রাখবো।

সংলাপ শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে বেইলি রোডে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বাসায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা তুলে ধরেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতা জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, ঐক্যফ্রন্ট নেতা সুলতান মো. মনসুরসহ অন্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে আলোচনার বিষয়ে একটি লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন গণফোরামের এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। সংবাদ সম্মেলনে আ স ম আবদুর রব বলেন, আমরা সাত দফা দাবি জানিয়েছি। এসব দাবি মানা না মানার এখতিয়ার সরকারের। আমরা মাঠে আন্দোলন অব্যাহত রাখবো। আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি-দাওয়া আদায় করা সম্ভব কি না জানতে চাইলে আবদুর রব বলেন, সব দাবি কি পূরণ হয়? একদিনে কি সব দাবি পূরণ সম্ভব? আমরা আমাদের মতো কর্মসূচি চালিয়ে যাব। নির্বাচনকে ঘিরে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে ।

সুব্রত চৌধুরী বলেন, আমাদের বক্তব্য শোনার পর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সভা-সামাবেশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কোনো ধরনের বাধা থাকবে না। এসব সভা-সমাবেশে সহযোগিতা করার জন্যও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

এদিকে সংলাপ শেষে গণভবন থেকে বের হয়ে ড. কামাল হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, সংলাপ ভালো হয়েছে।

রাজনীতি সংবাদ, সমসাময়িকী

।।আজ সন্ধায় সরকারি গণভবনে সংলাপে বসবে-কি ঘটবে?ইতিহাসের বদল না পুনরাবৃত্তি??।।

জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিদলগুলোর মধ্যে বহুল আলোচিত সংলাপের সূচনা হচ্ছে আজ। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সঙ্গে প্রধান বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই সংলাপে দৃষ্টি পুরো জাতির। সাত দফা দাবি নিয়ে সংলাপের টেবিলে বসছে ঐক্যফ্রন্ট। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অনেকটা অঘোষিত শর্ত আরোপ করা হয়েছে। ‘সংবিধান সম্মত’ শব্দ দিয়ে সংলাপের চিঠিতে ঐক্যফ্রন্টকে যে বার্তা দেয়া হয়েছে তার পাল্টা বার্তা নিয়েই ফ্রন্টের নেতারা সংলাপে বসছেন বলে সূত্রের দাবি। তবে সংলাপ আহ্বান ও সম্মতির পর রাজনীতির মাঠে কিছু আলামত বিরোধী জোটের নেতাদের মাঝে সংলাপের ফল নিয়ে সংশয় তৈরি করছে। আলামত যাই হোক বহু প্রত্যাশিত সংলাপের টেবিল থেকে ভালো কিছু নিয়ে ফেরার আশায় আজ সরকার প্রধানের সরকারি বাসভবন গণভবনে যাবেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। সংলাপে আলোচনার সঙ্গে নৈশভোজের আয়োজন থাকবে বলে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

তবে নৈশভোজে ঐক্যফ্রন্ট নেতারা অংশ নেবেন না বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। অনেকটা আচমকা ঐক্যফন্টের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংলাপের ঘোষণা পুরো দেশের রাজনীতিতে একটা স্বস্তির আবহ নিয়ে এসেছে। পরে সংলাপের জন্য সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও প্রফেসর ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে সাড়া পেয়েছেন। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, সামনে সময় কম। তবে অন্যান্য দলের সঙ্গেও সংলাপে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রী।

ফল নিয়ে সংশয় থাকলেও পুরো জাতি অধীর আগ্রহে তাকিয়ে সংলাপের দিকে। ২০১৪ সালের আলোচিত নির্বাচনের আগে থেকেই সংলাপ দাবি করে আসছিল বিএনপি। এ দাবির মধ্যেই দেশে- বিদেশে আলোচনার জন্ম দিয়ে অনুষ্ঠিত হয় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের পর আলোচনার আহ্বান জোরালো থাকলেও সময়ের স্রোতে তা গতি হারায়। ওই নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে বসাতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগও ভেঙ্তে যায়। এমন অবস্থায় রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যে প্রায় একদশক পার হওয়ায় রাজনৈতিক দৃশ্যপটেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। নতুন ধাঁচের রাজনৈতিক কৌশল আর নির্বাচন মানুষের মধ্যে নানা ভয় আর শঙ্কা ছড়িয়ে দিয়েছে। এই অবস্থার মধ্যে তৃতীয় কোনো পক্ষের দৃশ্যত মধ্যস্থতা ছাড়া প্রধান দুই রাজনৈতিক জোটের সংলাপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেও এই উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে কোনো চাপে পড়ে এই সংলাপে যাচ্ছেন না তারা। চাপ থাকলে নিজেরাই সংলাপের উদ্যোগ নিতেন। বিরোধী জোটের সংলাপের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আজকের সংলাপ হচ্ছে।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন অন্তত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের চাপ থেকে হলেও আওয়ামী লীগ এই সংলাপকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। দেশে-বিদেশে এমন একটি নির্বাচন আয়োজনের চাপ ছিল দীর্ঘদিন থেকে। আগে বিএনপি’র সংলাপের আহ্বানে সাড়া না দেয়ার পেছনে আওয়ামী লীগ দাবি করে আসছিল অতীতে আহ্বান জানানো হলেও বিএনপি এতে সাড়া দেয়নি। এমনকি খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু সংবাদ শুনে প্রধানমন্ত্রী সমবেদনা জানাতে গিয়ে ফিরে এসেছিলেন তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে। ক্ষমতাসীন দলের এমন অভিযোগ আর যুক্তির ধার হয়তো কিছুটা কমিয়ে দিয়েছে নবগঠিত ঐক্যফ্রন্ট। এ ফ্রন্টে একক নেতৃত্বে নেই কোনো দল। আওয়ামী লীগ সংলাপে বসছে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে। আর এর অংশ হিসেবে বিএনপি নেতারা গণভবনে যাচ্ছেন। সংলাপে ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দিচ্ছেন গণফোরাম সভাপতি ও সংবিধান প্রণেতা ড. কামাল হোসেন। তাই অতীতে সংলাপ নাকচ করে এলেও আচমকা সংলাপে বসাতে তেমন একটি অস্বস্তি নেই ক্ষমতাসীন দলে। বরং আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় এই সংলাপকে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দেখাতে চায় আওয়ামী লীগ।

আজ সন্ধ্যা সাতটায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা সংলাপে বসবেন। ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নাম আগেই জানিয়ে দেয়া হয়েছে। গতকাল আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের ২৩ জন নেতা অংশ নিচ্ছেন সংলাপে।

গত রোববার আওয়ামী লীগের প্রতি সংলাপের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তার চিঠির জবাবে পরের দিন সংলাপে সাড়া দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। পরের দিন সাত সকালেই ড. কামাল হোসেনের বেইলী রোডের বাসায় প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণপত্র নিয়ে হাজির হন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। সংলাপে করণীয় ঠিক করতে এদিনই বিকালে বৈঠকে বসেন ঐক্যফ্রন্ট নেতারা। বৈঠকে ৭ দফার ভিত্তিতে আলোচনার লক্ষ্য ঠিক করার পাশপাশি ১৬ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নাম চূড়ান্ত করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সংলাপে থাকবেন ১৪ দলের ২৩ নেতা: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপে বসবেন ১৪ দলীয় জোটের ২৩ নেতা। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মোহাম্মদ নাসিম, কাজী জাফরউল্লাহ, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, মাঈনুদ্দিন খান বাদল, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, আওয়ামী লীগের ড. আবদুর রাজ্জাক, রমেশ চন্দ্র সেন, আবদুল মতিন খসরু, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোটেক শ ম রেজাউল করিম অংশ নেবেন। বুধবার আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নেতাদের বৈঠক হবে।

ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলে থাকবেন ১৬ জন: ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রতিনিধি দলের হয়ে ১৬ জন গণভবনে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে আছেন- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, সহ-সভাপতি তানিয়া রব, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন, গণফোরাম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, নির্বাহী সভাপতি এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, এসএম আকরাম, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ডাকসু’র সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার আ ব ম মোস্তফা আমিন।

সংলাপের অতীত অভিজ্ঞতা: ২০১৪ সালের ৫ই জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ২০১৩ সালের শেষদিকে নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংলাপে বসে বিএনপি। সঙ্কট নিরসনে জাতিসংঘের রাজনীতিবিষয়ক সহকারী মহাসচিব অস্কার ফার্নান্দেজ তারানকো তিনবার ঢাকা সফর করেন। আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং বিএনপি’র তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে তারানকোর সঙ্গে সরকার ও বিরোধী দলের প্রথম বৈঠকটি হয় ১০ ও ১১ই ডিসেম্বর। তৃতীয় বৈঠক হয় জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি নিল ওয়াকারের উপস্থিতিতে। নির্বাচনের আগে এই সংলাপ আশা জাগালেও শেষ পর্যন্ত কোনো ফল ছাড়াই তা ভেস্তে যায়।

এর আগে ২০০৬ সালের অক্টোবরে হয়েছিল আলোচিত সংলাপ। তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল বিএনপি’র মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া ও প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল সংলাপে বসেন। সে সময় প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে সংলাপ হয়েছিল নির্বাচনকালীন সরকার ইস্যুতে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বিএনপি’র কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৯ দফা তুলে ধরা হয়। কিন্তু এত লম্বা সময় ধরে ছয় দফা বৈঠক করেও মান্নান ভূঁইয়া ও আবদুল জলিলের মধ্যে কোনো ধরনের সমঝোতা হয়নি। অবশেষে দু’জনই তাদের দলের শীর্ষনেত্রীর কাঁধে সিদ্ধান্তের ভার দিয়ে সংলাপের হাল ছেড়ে দেন। ওই সংলাপেও দৃশ্যত কোনো ফল আসেনি। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার দুই প্রধান রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে একটি সংলাপে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করেন। ওই সংলাপের কোনো দৃশ্যমান ফল দেখা যায়নি রাজনীতির মাঠে। ১৯৯৪ সালে মাগুরার উপ-নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার পর আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতে ইসলামী নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করে আন্দোলন শুরু করে। ওই সময় সরকারি দল বিএনপি’র সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর সংঘাতময় রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিরসনের চেষ্টায় বাংলাদেশে আসেন তৎকালীন কমনওয়েলথ মহাসচিবের বিশেষ দূত স্যার নিনিয়ান স্টিফেন। যদিও আওয়ামী লীগের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ সামনে এলে কোনো মধ্যস্থতা ছাড়াই তিনি ফিরে যান। ওই সময় খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে তৎকালীন বিরোধী দলের প্রতি সংলাপের আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেন। কিন্তু ওই সময়ও সংলাপ আয়োজন সফল হয়নি। ১৯৮৪ সালে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে আহ্বান জানিয়েছিলেন এইচএম এরশাদ। বঙ্গভবনে হওয়া ওই সংলাপে বেগম খালেদা জিয়ার সাত দলের পক্ষ থেকে ৩৩ দফা দাবিনামা দেয়া হয়েছিল। ওই সংলাপের পরপরই বঙ্গভবনে জামায়াতের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এরশাদ। আবার সংলাপে বসেন শেখ হাসিনার ১৫ দলের নেতাদের সঙ্গেও। ওই সংলাপ থেকেও কাঙ্ক্ষিত কোনো ফল বের হয়নি।

★দিঘলিয়াওয়েব২৪ স্পেশাল রিপোর্টার

 ০১ নভেম্বর ২০১৮ বৃহস্পতিবার

   সকাল ১০ঃ০০মিঃ
জাতীয় সংবাদ, সমসাময়িকী

।।আদালত বর্জনের কর্মসূচি সুপ্রিম কোর্ট বারের রায় প্রত্যাখ্যান বিএনপির-খালেদাজিয়ার সাজা বাড়লো।।

।।আদালত বর্জনের কর্মসূচি সুপ্রিম কোর্ট বারের রায় প্রত্যাখ্যান বিএনপির
খালেদার সাজা বাড়লো।।

দিঘলিয়াওয়েবব্লগ২৪ রিপোর্ট


৩১ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার, ৯:৪৫

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বিচারিক আদালতের দেয়া ৫ বছর কারাদণ্ড থেকে খালাস চেয়ে করা আপিল খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা রিভিশন আবেদন গ্রহণ করে তাকে ১০ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে এই মামলায় বিচারিক আদালতে ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে অন্য দুই আসামি কাজী সালিমুল হক কামাল ও শরফুদ্দিন আহমেদের করা আপিলও খারিজ হয়ে যাওয়ায় তাদের সাজা বহাল রয়েছে। খালেদা জিয়াসহ তিন আসামির আপিল এবং দুদকের করা রিভিশন আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল এ রায় ঘোষণা করেন। এ মামলায় বিচারিক আদালতে ১০ বছর করে কারাদণ্ড পাওয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও খালেদা জিয়ার ভাগ্নে মমিনুর রহমান পলাতক থাকায় তারা আপিলের সুযোগ পাননি।

এদিকে খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে দেয়া এই রায়কে ‘বেআইনি’ ও ‘ন্যায়বিচার’-এর পরিপন্থি উল্লেখ করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। রায়ের পর সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী সমিতি ভবনের তৃতীয়তলার সম্মেলন কক্ষে জরুরি বৈঠক করেন বিএনপি চেয়ারপারসনের আইনজীবীরা। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রায়ের প্রতিবাদে আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট উভয় বিভাগে আদালতের কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।

রায়ের পরপরই বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবন ও তার আশপাশ এলাকায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করেন। অন্যদিকে রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, আপিল বিভাগে সাজা বাতিল না হলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না খালেদা জিয়া। দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান জানান, এ রায়ের ফলে আগামী নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অংশ নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। এর আগে সোমবার এক আদেশে এই মামলার রায়ের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য রাখেন আদালত।

গতকাল রায় ঘোষণার সময় সংশ্লিষ্ট আদালতে খালেদা জিয়ার কোনো আইনজীবীকে দেখা যায়নি। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোমতাজ উদ্দিন ফকির, মুরাদ রেজা, দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গতকাল সকাল থেকেই সুপ্রিম কোর্টের বর্ধিত ভবনের ১৭ নম্বর কক্ষের সামনে ছিল বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সেখানে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। গত ৮ই ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায়ে খালেদা জিয়াকে ৫ বছর ও অন্য আসামিদের ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছিলেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান। রায়ের পর খালেদা জিয়াকে রাখা হয় নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি ভবনে। হাইকোর্টের আদেশের প্রেক্ষিতে গত ৬ই অক্টোবর থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে সোমবার (২৯শে অক্টোবর) জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার রায়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ অন্য তিন আসামিকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেন একই বিচারিক আদালত।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা বাড়াতে দুদকের করা রিভিশন আবেদন ও সাজা বহাল চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের ওপর শুনানি গত ২৩শে অক্টোবর শেষ হয়। তার আগে ২৮ কার্যদিবসে খালেদা জিয়ার আপিল আবেদনের ওপর শুনানি করেন তার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান ও এ জে মোহাম্মদ আলী। গত ১২ই জুলাই থেকে আপিলের শুনানি শুরু হয়। হাইকোর্টে এই মামলার বিচারিক কার্যক্রম ৩১শে অক্টোবরের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা ছিল। তবে, শুনানির জন্য আরো সময় চেয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা আবেদন করলে সোমবার এ আবেদন নাকচ করেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত সর্বোচ্চ আদালত। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা জানান, এই মামলার অর্থের উৎস জানতে চেয়ে অধিকতর সাক্ষ্যগ্রহণ চেয়ে করা আবেদন হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ নথিভুক্ত করলে আপিল বিভাগে আবেদন করেন তারা। আপিল বিভাগ সেই আবেদনটি নিষ্পত্তি করতে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, সোমবার ওই আবেদন খারিজ করে রায়ের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন হাইকোর্টের ওই বেঞ্চ। এদিকে গতকাল সকালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণার আগে খালেদা জিয়ার আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীনসহ অন্যরা আপিল বিভাগে গিয়ে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট এই বেঞ্চের প্রতি অনাস্থার আবেদন জানান। তবে, প্রধান বিচারপতি এ আবেদনে সাড়া দেননি।

সংক্ষিপ্ত রায়ে যা বলা হয়েছে: গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বেঞ্চের দুই বিচারপতি আসন গ্রহণ করেন। এ সময় এজলাস কক্ষে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মীরা আসেন রায় শোনার জন্য। সংক্ষিপ্ত রায়ের শুরুতে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, রায়ের কার্যকর অংশটুকু ঘোষণা করা হচ্ছে। রায়ে বিচারপতি বলেন, তিনটি আপিল (খালেদা জিয়া, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ) খারিজ করা হলো। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা রিভিশন আবেদনের রুল যথাযথ ঘোষণা করা হলো। আর খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছর কারাদণ্ড করা হলো।
রায়ের প্রতিবাদে আজ আদালতের কার্যক্রম বর্জন: রায়ের পর গণমাধ্যমে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এক পর্যায়ে জানা যায়, নিজেদের মধ্যে বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবেন তারা। দুপুরে বৈঠক শেষে সুপ্রিম কোর্টের শামসুল হক চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, বুধবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে আদালত বর্জন কর্মসূচি পালন করা হবে। তিনি বলেন, ‘বেআইনিভাবে রায় দিয়ে খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানো হয়েছে।’ জয়নুল আবেদীন অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চের এজলাসে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছাড়া সাধারণ আইনজীবীদের প্রবেশ করতে দেয়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

অতীতে আদালতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এমন কর্তৃত্ব আমরা কখনো দেখিনি। তিনি বলেন, ‘বর্তমান প্রধান বিচারপতিকে বলেছিলাম যে, এস কে সিনহা (সাবেক প্রধান বিচারপতি) চলে যাবার পর বিচার বিভাগে একটি ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। সেই ক্ষত মেরামত করুন। কিন্তু সেই ক্ষত মেরামত হয়নি। এখনো প্রশাসন বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে এবং এখন বিচার বিভাগের ওপর মানুষের আস্থা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। এই কারণে সাধারণ আইনজীবীরা, দেশের মানুষ দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রতিনিধিদের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা মনে করে যে এই প্রতিনিধিরা তাদের জন্য কিছুটা হলেও প্রতিকার করবে।’ জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘অতীতে আমরা আদালত বর্জনের মতো কোনো কর্মসূচি কখনো দেই নাই। আদালতের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আমরা বজায় রেখেছি। কিন্তু সার্বিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার জন্য এবং এরকম একটি বেআইনি রায়ের প্রতিবাদে বুধবার সকাল ৯টা থেকে ১টা পর্যন্ত আপিল ও হাইকোর্ট উভয় বিভাগের আদালত বর্জন করা হবে। যদি আমাদের কর্মসূচিতে কোনো বাধার সৃষ্টি হয় তাহলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে’। সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও বিএনপি নেতা খন্দকার মাহবুব হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির আজকের আদালত বর্জনের কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়েছে জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট। সংগঠনের মুখপাত্র ব্যারিস্টার একেএম এহসানুর রহমান গতকাল এ তথ্য জানান।

খালেদার সাজা বৃদ্ধি ন্যায়বিচারের পরিপন্থি: খন্দকার মাহবুব: রায়ের প্রতিক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার অন্যতম আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন মানবজমিনকে বলেন, ‘যেভাবে খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধি করা হয়েছে তা ন্যায় বিচারের পরিপন্থি। তার সাজা বাড়ানোর মতো কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ এই মামলায় নেই।’ তিনি বলেন, ‘সাধারণত বিচারিক আদালতে আসামিদেরকে যে সাজা দেয়া হয় উচ্চ আদালতে সেই সাজা বৃদ্ধির নজির খুব বেশি নেই। সেক্ষেত্রে আমরা ন্যায়বিচার পাইনি।’ আগামী নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতার ব্যাখ্যা দেন সিনিয়র এই আইনজীবী। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘যদি আপিল আদালতে মামলা চলাকালীন অবস্থায় তার সাজা মুলতবি বা স্থগিত থাকে কিংবা তিনি খালাস পান তাহলে নির্বাচনে অংশ নিতে আর কোনো বাধা নেই।’ খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই বলে আসছিলাম, আগামী নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই সরকার নীল নকশার মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে কারাগারে রাখবে। এও বলেছিলাম আইনি পন্থায় তাকে কারামুক্ত করা সম্ভব নয়। সেক্ষেত্রে রাজনৈতিকভাবেই তাকে কারামুক্ত করতে হবে।’

এই রায় রাজনীতিবিদদের জন্য একটি ‘মেসেজ’: অ্যাটর্নি জেনারেল: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধির রায়কে রাজনীতিবিদদের জন্য একটি বার্তা বলে মনে করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। গতকাল রায়ের পর তার কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘এই রায়ের মাধ্যমে হাইকোর্টে এই মামলাটির পরিসমাপ্তি ঘটলো। এই রায় নিশ্চয়ই একটি ইঙ্গিত বহন করে যে, রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকে কেউ যদি কোনো অন্যায় করে, তবে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না। তাই, এই রায় রাজনীতিকদের জন্য একটি মেসেজ।’ এ সময় আগামী জাতীয় নির্বাচনে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণ নিয়ে আইনি জটিলতার বিষয়টি উঠে আসে। গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘কেউ সাজাপ্রাপ্ত হলে যতক্ষণ পর্যন্ত সাজা বাতিল না হয় ততক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চয়ই নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। তিনি বলেন, ‘সাজার দুই রকম ব্যাখ্যা রয়েছে। একটি হলো আপিল করে সাজা বাতিল করা এবং আরেকটি হলো সাজার কার্যকারিতা স্থগিত করা। এখানে আমার অভিমত হলো, সাজাপ্রাপ্ত কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে তার সাজা বাতিল হতে হবে।

তবে, সাজা সাময়িক স্থগিত করে নির্বাচন করতে পারবে না। আপিল শুনানি অবস্থায় থাকলেও হবে না।’ এক্ষেত্রে এর আগেও অনেকের সাজা স্থগিত হওয়ার পর নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন- এমন বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘অনেকেই আইনের নানা ফাঁকফোকর দিয়ে করতে পারেন। কিন্তু আমার ব্যাখ্যা হলো যে, কেউ যদি দণ্ডপ্রাপ্ত হন সেক্ষেত্রে তার দণ্ড যতক্ষণ না বাতিল হবে, সে পর্যন্ত তিনি মুক্ত মানুষ হিসেবে গণ্য হতে পারেন না। আবার কারো সাজা স্থগিত হলে আপাতত জেল খাটা থেকে হয়তো অব্যাহতি পেতে পারেন, কিন্তু নির্বাচন করতে পারবেন না।’ এ মামলার তিনজন পলাতক আসামির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যারা এ মামলায় পলাতক আছেন, তারা তো আদালতে আসেননি (আপিল করেননি)। তাই, তাদের বিষয়ে হাইকোর্টের কিছু বলার নেই।’ আদালতে রায়ের সময় খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের অনুপস্থিতির বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এটা তাদের ইচ্ছা। আদালত তাদের সবরকম সুযোগ দিয়েছেন। গত চার মাস ধরে ২৮ কার্যদিবস এ মামলার শুনানিতে তারা অংশ নিয়েছেন। এরকম সুযোগ দেয়া নজিরবিহীন।’ রায় নিয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের বিভিন্ন মন্তব্যের কোনো সারবত্তা নেই বলে মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, এই মামলার মুখ্য আসামি খালেদা জিয়া। আমরা তার সাজা বৃদ্ধি চেয়ে একটি রিভিশন আবেদন করেছিলাম। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে খালেদা জিয়াকে ১০ বছর সাজার রায় দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘হাইকোর্টের এই রায়ের ফলে খালেদা জিয়া আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।’

মামলার পূর্বাপর: জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে বিদেশ থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩রা জুলাই রমনা থানায় এ মামলা দায়ের করে দুদক। তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ই আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। ২০১৪ সালের ১৯শে মার্চ এ মামলার অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। গত ৮ই ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আকতারুজ্জামান। এ ছাড়া মামলার অন্য আসামি খালেদা জিয়ার বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান, বিএনপিদলীয় সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সালিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও খালেদা জিয়ার ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। রায়ের পর খালেদা জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি ভবনে রাখা হয়।

হাইকোর্টের আদেশের প্রেক্ষিতে গত ৬ই অক্টোবর খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের কেবিন ব্লকে ভর্তি করা হয়। বিচারিক আদালতের ওই রায়ের পর দণ্ড থেকে খালাস ও জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন খালেদা জিয়া। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার সাজা বাড়ানোর আবেদন করেন দুদকের আইনজীবী। পাশাপাশি এ মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ও কারাগারে থাকা অন্য আসামিরাও সাজা থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেন। গত ২২শে ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে তার অর্থদণ্ড স্থগিত করে হাইকোর্টের এই বেঞ্চ। গত ১২ই মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয় হাইকোর্টের এই বেঞ্চ। এরপর বেশ কয়েক দফায় আপিল শুনানির ধার্য তারিখ পর্যন্ত তার জামিন বর্ধিত করা হয়।

জাতীয় সংবাদ, সমসাময়িকী

।।সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিল পাসঃইয়াবা সেবন ও ব্যাবসায় শাস্তি মৃত্যুদন্ড।।

সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিল পাস -ইয়াবা সেবন ও ব্যাবসায় শাস্তি মৃত্যুদন্ড

————————————————————-।।দিঘলিয়াওয়েবব্লগ২৪ সংসদ প্রতিনিধি।।

২৮ অক্টোবর, ২০১৮ ইং ০৮:৪৫ মিঃ

অবশেষে সমাজের ব্যাধি মাদক নির্মূলে কঠোর আইন পাস করেছে জাতীয় সংসদ। ইয়াবা (অ্যামফিটামিন), কোকেন, হেরোইন পরিবহন, কেনাবেচা, ব্যবসা, সংরক্ষণ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, হস্তান্তর, সরবরাহ ইত্যাদি অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবনের বিধান রেখে সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিল-২০১৮ পাস হয়েছে।

গতকাল শনিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। পরে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। তবে বিলটির ওপর বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (এ) সংসদ সদস্যদের আনীত জনমত যাচাই-বাছাই ও সংশোধনী প্রস্তাব কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

পাসকৃত বিলে মাদক বহনের পরিমাণ অনুযায়ী সাজা কমবেশির বিধান রাখা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই আইনের অধীন অপরাধ সংঘটনে অর্থ বিনিয়োগ, সরবরাহ, মদদ ও পৃষ্ঠপোষকতা দিলেও একই ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া এই প্রথম মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ীর পাশাপাশি মাদক ব্যবসায় পৃষ্ঠপোষক/অর্থলগ্নীকারী, মদদদাতাদেরও কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা হয়েছে পাসকৃত বিলে। পাসকৃত বিলে কোকেন, কোকো মাদক চাষাবাদ, উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে ২৫ গ্রামের বেশি হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। আর ২৫ গ্রামের নিচে হলে কমপক্ষে দুই বছর ও সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদন্ডের বিধান আছে। এছাড়া ইয়াবা বহনের ক্ষেত্রে অ্যামফিটামিনের পরিমাণ ২০০ গ্রামের বেশি হলে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদন্ড এবং অর্থদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। তবে ১০০ গ্রাম হলে সর্বনিম্ন ৫ বছর এবং সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আইনে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালালে আইনে এক বছরের কারাদন্ড ও অর্থদন্ডের বিধান রাখা হয়েছে। বিলে আরও বলা হয়েছে, পারমিট ব্যতীত কোন ব্যক্তি অ্যালকোহল পান করতে পারবে না এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে সিভিল সার্জন অথবা সরকারি মেডিক্যাল কলেজের অন্যূন কোন সহযোগী অধ্যাপকের লিখিত ব্যবস্থাপত্র ব্যতীত কোনো মুসলমানকে অ্যালকোহল পান করার অনুমোদন দেয়া যাবে না। প্রস্তাবিত আইনানুযায়ী, মাদকাসক্ত ব্যক্তির ডোপ টেস্টে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলে কমপক্ষে ৬ মাস ও সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদন্ড দেওয়া হবে। আইনে শিশাকেও মাদকের সংজ্ঞায় এনে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির স্বার্থে মোবাইল কোর্টের এখতিয়ার আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

আরো দুটি বিল পাস: জাতীয় সংসদ অধিবেশনে গতকাল আরও দুটি বিল পাস হয়েছে। বিল দুটি হচ্ছে— বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বিল, ২০১৮ ও বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বিল, ২০১৮। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক বিল দুটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

পরশমণি

☞বিপদের বন্ধু নেক আমল💐

💐বিপদের বন্ধু নেক আমল💐

।। মোড়ল মোঃ ইলিয়াস হুসাইন।।

পরশমণি ডেস্ক: একদিন তিন বন্ধু নিশ্চিন্ত মনে ঠান্ডা বাতাস খেয়ে মনের আনন্দে পথ চলিতেছিল। হঠাৎ দিনের আবহাওয়া পরিবর্তন হয়ে খুব মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। বৃষ্টি থেকে বাঁচা যায় এ ধরনের কোন বস্তু তাদের সাথে ছিলনা। তখন তাদের এক জন দেখতেপেল একটি পাহাড়ী গর্ত। তাই দেরী না করে সবাই গর্তে ঢুকেগেল। কিছুক্ষন পর আকস্মাৎ একটি পাথর এসে তাদের গর্তের মূখ একেবারে বন্ধ করে দিল। তখন তারা সবাই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়লো। এখন বের হবে কি ভাবে? তারা তিন বন্ধু মিলে খুব চেষ্টা করলো, কিন্তু এতো বড় পাথরটাকে সরানো সম্ভব হল না। তারা চিন্তায় পড়ে গেলো, এ মহা বিপদ থেকে কিভাবে মুক্তি পাওয়া যায়? পাথর সরাতে না পারলে এগুহায় তাদের মৃত্যু অনবিার্য।

তারা সিদ্ধান্তে উপনীত হলো নিজ নিজ আমলের প্রতি লক্ষ্য করে তারা একজনের পর একজন দু-আ করবে। যে যে প্রকার আমল শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করেছে। তার উসীলা ধরে আল্লাহর কাছে বিপদ থেকে মুক্তির জন্য দো-আ করবে।

কথামতো তাদের মধ্যে একজন এই বলে দু-আ করতে লাগলো- হে আল্লাহ! আমার মাতাপিতা খুব বৃদ্ধ ছিলেন এবং আমার ছোট ছোট সন্তানাদি ছিল। আমি তাদের খোর পোষের জন্য প্রতিদিন মাঠে বকরী চরাতাম। বিকাল বেলা বকরীগুলো নিয়ে বাড়িতে আসতাম। তখন বকরীর দুধ দোহন করে আমি আমার সন্তানাদির পূর্বেই আমার বৃদ্ধ মাতাপিতাকে প্রথমে দুধ পান করাতাম। তারপর সন্তানদের কে পান করাতাম। অভ্যাস অনুযায়ী একদনি বকরীগুলো নিয়ে মাঠে গেলঅম কিন্তু কাছে ঘাস না পাওয়ায় বহুদুর চলে যেতে হলো বকরী চরাতে। তাই ফিরে আসতে রাত্রি হয়ে গেল। বাড়িতে এসে দেখতে পেলাম আমার মাতা-পিতা দুজনেই ঘুমিয়ে পড়েছেন। তখন আমি বকরীর দুধ দোহান করে তাদের মাথার নিকট দাড়িয়ে রইলাম। ঘুমের ব্যাঘাত হবে বলে তাদেরকে জাগ্রত করা পছন্দ করলাম না। আর তাদের পূর্বে সন্তানদেরকে পান করানো পছন্দ করলাম না। অথচ তারা আমার পায়ের নিকট পড়ে কান্নাকাটি করেছিল। এভাবে আমি দুধ হাতে নিয়ে মা-বাবার জাগার অপেক্ষায় ফজর পর্যন্ত দাড়িয়ে ছিলাম। অত:পর ফজরের সময় মা-বাব জাগ্রত হলে তাদের কে দুধ পান করিয়ে সন্তানদের কে পান করিয়ে ছিলাম।

হে রহমানুর রাহীম! তুমি যদি জান যে, আমি এটা একমাত্র তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য করেছি, তাহলে এই পাথর তুমি সরিয়ে দাও। সাথে সাথে তখন এ পরিমাণ পাথর সরে গেল যে, তারা আকাশ দেখতে পেল।

অত:পর তাদের দ্বিতীয় বন্ধু এই বলে দু-আ করতে লাগলো যে, হে আল্লাহ আমার এক চাচাত বোন ছিল। আমি তাকে খুব ভালবাসতাম। প্রাণের চেয়েও বেশী ভালবাসতাম। আমি একদিন তার দেহ ভোগকরার ইচ্ছা করলাম। কিন্তু সে সম্মত ছিলনা। অনেক পিড়া পিড়ির পর সে একথা বলে সম্মত হলো যে, তুমি আমাকে একশত দিনার দিবা। সে সময় একশত দিনার যোগার করা সহজ সাধ্য ছিল না। তাই সে ভেবেছিল একশত দিনার যোগার হবে না, তার লাগলও পাওয়া যাবে না। কিন্তু আমি বহু কষ্ট করে একশত দিনার যোগার করে তার নিকট উপস্থিত হলাম। শর্তপূরন দেখে সে অবাক হয়ে গেলো। উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য যখন আমি তার উভয় পায়ের মাঝখানে বসলাম তখন সে বল্ল-হে আল্লাহর বান্দা! আল্লাহকে ভয় কর! তুমি আমার মোহর ভেঁঙ্গোনা, সতীত্ব নষ্ট করো না, তখন আমি তাকে ছেড়ে উঠে গেলাম। হে মাবুদ! তুমি যদি জান যে, আমি এটা একমাত্র তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য করেছি তাহলে আমাদেরকে এই বিপদ থেকে মুক্তি দান কর। তখন সাথে সাথে পাথরটি আরো একটু সরে গেল এবং গুহার ভিতরে আলো প্রবেশ করলো। কিন্তু তখনও তাদের বের হওয়ার ফাঁকা হয়নি।

এর পর তৃতীয় বন্ধু এই বলে দু-আ করতে লাগলো যে, হে আল্লাহ! আমি একজন মজদুর (কাজের লোক) নিয়েছিলাম এক ফারাক (তিনহা) পরিমাণ চাউল এর বিনিময়ে। যখন তার কাজ শেষ হলো, তখন সে বলল আমার প্রাপ্য দাও। আমি সাথে সাথে তার প্রাপ্য পেশ করলাম। কিন্তু সে আরো বেশীর দাবিতে তা গ্রহন করল না এবং রাগ করে তা না নিয়েই ফিরে গেল। তখন আমি তার ঐ হক দ্বারা ব্যবসা করতে আরম্ভ করলাম। ফলে তার লাভ দ্বারা বহু বকরী, দুম্বা, উট, গরু ও রাখাল জমা করলাম। দীর্ঘদিন পর হঠাৎ সে এসে বলল আল্লাহকে ভয় কর আমার উপর জুলুম কর না। আমার হক দাও। আমি তার উত্তরে বললাম ঐ সব বকরী, উট, গরু ও রাখাল তোমার। সে বলল আল্লাহকে ভয় কর! আমার সাথে ঠাট্টা করো না। আমি বললাম আমি ঠাট্টা করছি না। তুমি ঐ সব গ্রহণ কর। এগুলো তোমার হকের কামাই। সে এগুলো নিয়ে চলেগেল।

হে দয়ার ভান্ডার তুমি যদি জান যে, আমি এটা একমাত্র তোমার সন্তুষ্টির জন্য করেছি। তহলে পাথরটাকে সরিয়ে দাও এবং আমাদের কে মুক্ত কর। তখন আল্লাহ তা’আলা পাথরকে সম্পূর্ণ সরিয়ে দিলেন। তারা তিন বন্ধু গর্ত থেকে বের হয়ে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে আনন্দ চিত্তে নিজ নিজ ঘরে ফিরে গেল।

জাতীয় সংবাদ

আক্রান্ত হলে জবাব দেবোঃ আমাদের কেউ দাবায় রাখতে পারবেনা-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আক্রান্ত হলে জবাব দেবো: প্রধানমন্ত্রী
‘আমাদের কেউ দাবায় রাখতে পারবেনা’- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

।।দিঘলিয়া ওয়েব ব্লগ অনলাইন রিপোর্ট।।
২৬ অক্টোবর, ২০১৮ ইং ০৫:৪৬ মিঃ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়- এই নীতিতে আমরা বিশ্বাসী। তবে আমাদের আক্রমণ করা হলে তার জবাব দেওয়া হবে। বহিঃশত্রুর আক্রমণ মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীকে আরও দক্ষ করে গড়ে তোলা হবে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে অগ্রযাত্রায় আরও কাজ করতে হবে।’ গতকাল বৃহস্পতিবার যশোরে বাংলাদেশ এয়ার ফোর্স (বিএএফ) একাডেমিতে বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সের উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আমাদের সরকার বরাবরই শাসক নয় বরং জনগণের সেবক হিসেবে দেশ পরিচালনা করতে চায়। আমাদের নিরলস কর্মপ্রচেষ্টার ফলে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়ক ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। বিগত প্রায় এক দশকে আমরা সব ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করছি।

বিএএফ প্যারেড গ্রাউন্ডে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্রোঞ্জ নির্মিত একটি আবক্ষমূর্তি উন্মোচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী এই কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করেন। এছাড়া বিমান সেনা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ১০৫ জেট ট্রেনিং ইউনিটের কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিএএফ একাডেমি প্রাঙ্গণে পৌঁছালে বিমান বাহিনী প্রধান চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান বিএএফ বেস-এর এয়ার অফিসার কমান্ডিং এয়ার ভাইস মার্শাল ফজলুল হক এবং বিএএফ একাডেমির কমাড্যান্ট এয়ার কমোডোর যাবেদ তানভীর খান তাঁকে অভ্যর্থনা জানান। মন্ত্রীবর্গ, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা, তিন বাহিনী প্রধানগণ, কূটনীতিকবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, পদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ২৩ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং ১৯৭১ সালে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব মানচিত্রে স্থান করে নিয়েছে। তিনি বলেন, জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘আমাদের কেউ দাবায় রাখতে পারবে না’। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তি সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভকারী বিজয়ী জাতি। আমরা মাথা উঁচু করে বাঁচব। প্রধানমন্ত্রী এই সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর অনুষ্ঠান আয়োজনের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আসুন আমরা সবাই মিলে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি। আমি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করি।’

জাতির পিতার অপরিসীম প্রজ্ঞা ও দূরদৃষ্টিকে ধারণ করে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে একত্রে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে সর্বাধুনিক ও অগ্রসর বাহিনীতে পরিণত করতে চাই। ভবিষ্যতে এই বাহিনীর উন্নয়নে আমাদের আরো অনেক পরিকল্পনা আছে। আগামী নির্বাচনে যদি আমরা বিজয়ী হই তাহলে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবো।’ সকলে মিলে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল একটি আধুনিক, শক্তিশালী ও পেশাদার বিমান বাহিনী গঠনের। তাঁর দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ সিদ্ধান্তে স্বাধীনতার পরপরই বিমান বাহিনীতে সংযোজিত হয় সে সময়কার অত্যাধুনিক মিগ-২১, সুপারসনিক ফাইটার বিমানসহ পরিবহন বিমান, হেলিকপ্টার, এয়ার ডিফেন্স রাডার। তিনি বলেন, আমরা বিমান বাহিনীর উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন অব্যাহত রেখেছি। আমাদের সরকারের ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে বিমান বাহিনীতে সংযোজিত হয় চতুর্থ প্রজন্মের অত্যাধুনিক মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান, সুপরিসর সি-১৩০ পরিবহন বিমান এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার। তিনি বলেন, আমাদের সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ২০০৯ সাল থেকে বিগত বছরগুলোতে বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন ও অপারেশনাল সক্ষমতা বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যে বিমান বাহিনীতে সংযোজিত হয়েছে এফ-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান, অত্যাধুনিক স্যালুন হেলিকপ্টার, মেরিটাইম সার্চ এন্ড রেসকিউ হেলিকপ্টার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ বিমান সেনা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হল। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি দক্ষ ও চৌকষ জনশক্তির যোগান দিতে নির্মিতব্য বিমানসেনা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট সক্ষম হবে। এ অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান সর্বাধুনিক প্রযুক্তিগত ও তত্ত্বীয় জ্ঞান নির্ভর বিমান সেনা গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় মাল্টিরোল যুদ্ধবিমানের জন্য দক্ষ ও পেশাদার বৈমানিক প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে গত বছরের ২ জুলাই স্থাপিত হয় ১০৫ এডভান্স জেট ট্রেনিং ইউনিট। এ ইউনিটের জন্য রাশিয়া থেকে ক্রয় করা হয়েছে অত্যাধুনিক ফ্রাই-বাই-ওয়্যার এবং ডিজিটাল ককপিট সম্বলিত ওয়াইএকে-১৩০ কমব্যাট প্রশিক্ষণ বিমান, যা এ পর্যন্ত তৈরিকৃত ৪র্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমানগুলোর অন্যতম। আজ থেকে এ ইউনিট তাদের কার্যক্রম শুরু করল।

বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স উদ্বোধন উপলক্ষে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমীতে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্ট প্রদর্শিত হয়। এ সময় বিমান বাহিনীর দক্ষ বৈমানিকগণ নানা ধরনের উড্ডয়ন কৌশল প্রদর্শন করেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদ

।।ডাক যোগে ওবামা ও হিলারির নামে বিস্ফোরক।।

ডাকযোগে ওবামা ও হিলারির নামে বিস্ফোরক
দিঘলিয়া ওয়েব ব্লগ ডেস্ক

২৫ অক্টোবর, ২০১৮ ১০:০০

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের বাড়ির উদ্দেশে ডাকযোগে সন্দেহজনক প্যাকেজ পাঠানো হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে বিস্ফোরক রয়েছে বলে ধারণা করছে সিক্রেট সার্ভিস। সংস্থার কর্মকর্তারা গতকাল বুধবার এ খবর জানান।
গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যক্তির বাড়ির উদ্দেশে সন্দেহজনক প্যাকেজ পাঠানোর ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

সিক্রেট সার্ভিস জানায়, গত মঙ্গলবার ডাকযোগে ম্যানহাটানের ওয়েস্টচেস্টারে হিলারির বাড়ির উদ্দেশে এবং গতকাল বুধবার ওয়াশিংটনে ওবামার বাড়ির উদ্দেশে সন্দেহজনক প্যাকেজ পাঠানো হয়। তাদের বাড়িতে ওইসব প্যাকেজ পৌঁছানোর আগেই সেগুলোর মধ্যে বিস্ফোরক আছে সন্দেহে সেগুলো জব্দ করা হয়। বর্তমান প্রেসিডেন্ট তো বটেই, সাবেক প্রেসিডেন্ট ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। সেই নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার সময় হিলারি ও ওবামার বাড়ির উদ্দেশে পাঠানো সন্দেহজনক প্যাকেজগুলো জব্দ করে সিক্রেট সার্ভিস।

গতকাল নিরাপত্তা সংস্থাটির এ বিবৃতির কিছুক্ষণ পর সিএনএন জানায়, সন্দেহজনক এক প্যাকেজ পাওয়ার পর সিএনএন তাদের নিউ ইয়র্ক ব্যুরো খালি করে ফেলে। বাইরে বেরিয়ে আসা কর্মীরা জানায়, ফায়ার অ্যালার্ম শুনে তারা দ্রুত কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসে। সিএনএনের কার্যালয়ে পাওয়া প্যাকেজটি দেখতে হিলারি ও ওবামার বাড়ির উদ্দেশে পাঠানো প্যাকেজের মতো। হিলারি ও ওবামার বাড়িতে সন্দেহজনক প্যাকেজ পাঠানোর ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এসব সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নিন্দনীয় এবং দায়ী যে কাউকে আইনের আওতায় আনা হবে।

সূত্র : এএফপি।

রাজনীতি সংবাদ

।।যথাসময়ে নির্বাচন হবে-শেখ হাসিনা।।

।।যথাসময়েই নির্বাচন হবে।।
গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
।।দিঘলিয়া ওয়েব ব্লগ রিপোর্ট।।

২৩ অক্টোবর, ২০১৮, ১০:২৪ এএম

যথা সময়েই দেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের সময় নিয়ে কোন সংশয় নেই। নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনের যে প্রস্তুতি নিচ্ছে, যে সময় তারা নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা দেবে ঠিক সে সময়েই নির্বাচন হবে। আমি বিশ্বাস করি নির্বাচন সঠিক সময় এবং সুষ্ঠু হবে। একই সময়ে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও মন্ত্রীসভা ছোট করা প্রয়োজন আছে কিনা সে বিষয়টি নিয়ে নিজেও প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন। মন্ত্রিসভা ছোট হলে উন্নয়ন ব্যাহত হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল (সোমবার) গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সউদী আরব সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। গত ১৬ অক্টোবর থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি সউদী আরব সফর করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গত নির্বাচনের আগে আমরা সব দলকে সাথে নিয়ে নির্বাচনকালীন সরকার করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তখন আমাদের আহ্বান সত্ত্বেও তৎকালীন বিরোধী দল বিএনপি সাড়া দেয়নি। এবার নির্বাচনকালীন সরকার দরকার আছে কিনা, সেটা দেখা যাবে।
নির্বাচনকালীন ছোট মন্ত্রিসভা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদে বিরোধী দলগুলো চাইলে হবে, না হলে হবে না। তিনি বলেন, এ নিয়ে তিনি বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে কথা বলেছেন। নির্বাচনকালীন সরকারের আকার ছোট করা হলে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আর তাছাড়া বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব দলের মন্ত্রী আছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাকে যে বাদ দিয়ে মন্ত্রিসভা ছোট করবো সেটা খুঁজে পাচ্ছি না। বড় থাকলে কি সমস্যা আছে? প্রশ্নকারী সাংবাদিক তখন বলেন, আইনে কোনো সমস্যা নেই। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তখন বলেন, আইনেও নাই, কোথাও নাই। ২০১৪ সালের নির্বাচনের সময় ছোট মন্ত্রিসভা ও তখনকার বিরোধী দলকে নিয়ে সব দলের সরকার গঠনের কথা বলেছিলাম। তখন খালেদা জিয়া বিরোধী দলের নেত্রী ছিলেন। তাকেও আমি আহ্বান করেছিলাম। কারণ তারা নির্বাচনে আসতে চাচ্ছিল না। তাদের আনার জন্য আমি বলেছিলাম যে, আসেন আমরা সকলে মিলে একটা সরকার গঠন করি, তাহলে কারও কোনো চিন্তা থাকবে না। যে কোনো মিনিস্ট্রি চাইলে আমি দিতে রাজি ছিলাম। তাদেরকে নিয়ে করতে চেয়েছিলাম। তখন তারা আসল না। বিরোধীদলে অন্য যারা ছিল, তাদেরকে নিয়ে আমি মন্ত্রিসভা গঠন করি। এখন এটা দরকার আছে কিনা সেটা দেখা যাবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা জানেন আমাদের কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। তা সত্তে¡ও যাদের প্রতিনিধিত্ব সংসদে আছে তাদের সবাইকে নিয়েই কিন্তু আমরা মন্ত্রিসভা গঠন করেছি। সেই মন্ত্রিসভা নিয়েই আমরা চলছি। আগে কিন্তু এটা ছিল না, আগে শুধু আমাদের ছিল। আমি বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে কথা বলেছি। আপনারা যেভাবে চান, সেভাবে আমরা প্রস্তুত আছি।
তবে প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য ছোট মন্ত্রিসভার সমস্যার কথা তুলে ধরেন বলেন, এখন (মন্ত্রিসভায়) কাটছাঁট করলে তো এক ধরনের সমস্যাই হবে। আমাদের এত প্রজেক্ট আছে। এরই মধ্যে আমরা এত প্রজেক্ট পাস করেছি, সেসব কাজ শেষ করা দরকার। এখন কয়েকটি মন্ত্রণালয় যদি একজনের হাতে দিই তাহলে তিনি পারবেন কিনা, দুই-তিন মাসের মধ্যে আমাদের অনেকগুলো কাজ করতে হবে। এখন কাজগুলো করতে গেলে কাউকে সরিয়ে দিলে কাজগুলো ব্যাহত হবে কিনা, এ সমস্যাটাই রয়ে গেছে। আমি কাজগুলো দ্রুত শেষ করতে চাই এবং সবাই যার যার মন্ত্রণালয়ের কাজগুলো করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ব্রিটেন ইত্যাদি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র আছে। আমি ওই সব দেশের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা তো কোনও নির্বাচনের সময় মন্ত্রিসভা পরিবর্তন করে না। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নানা আলাপ-আলোচনায় আমি তাদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করেছি। তারা তো বলেছে, তেমনটা করার তো কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই, আমরা যেমন থাকি তেমন থেকেই তো নির্বাচন করি। এখন দেখা যাক কী হয়? যদি ডিমান্ড করে অপজিশন তখন করবো। আর না করলে কিছু করার নেই।
ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের চিরাচরিত বিষয় বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কম হয়নি। কিন্তু সবকিছু মোকাবিলা করেই আমরা এগিয়ে যেতে পারছি তার কারণ জনগণই শক্তি। জনগণের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস আমার আছে। তাই আমার বিশ্বাস, সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে সুষ্ঠু নির্বাচন করতে আমরা সক্ষম হবো।

আগামী নির্বাচন নিয়ে কোনও ষড়যন্ত্র হচ্ছে কিনা এবং সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে যথাসময়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি সরকারের রয়েছে কিনা সাংবাদিকের এমন এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এখানে সরকারের কোনও ভূমিকা নাই। নির্বাচন কমিশন স্বাধীন। তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বাধীনভাবে। তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে যারা সংশয় সৃষ্টি করতে চাচ্ছে তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশে যেন গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা না থাকে। আরা ধারাবাহিকতা না থাকলে কিছু লোকের সুবিধা হবে। তাই তারা নির্বাচন নিয়ে সংশয় সৃষ্টি করতে চায়।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের জোট বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে এখন রাজনৈতিক স্বাধীনতা আছে, কথা বলার স্বাধীনতা আছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আছে। ’৭৫-এর পর যা ছিল না বর্তমানে মানুষ সর্বক্ষেত্রে স্বাধীনতা ভোগ করছে। রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছে সেটাকে সাধুবাদ জানাই। তিনি বলেন, কারা ঐক্য করেছে তা খেয়াল রাখতে হবে। দেখতে হবে কার কী অঙ্গভঙ্গি, কার কী বাচনভঙ্গি। এদের একজন মেয়েদের প্রতি কী ধরনের কটূক্তি করেছে সেটাও দেখেছেন। ঐক্যফ্রন্টে এ গাছের ছাল, ও গাছের বাকল যোগ দিয়েছে। আওয়ামী লীগ এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করছে না। খুনি, দুর্নীতিবাজ ও নারী কটূক্তিকারীদের ঐক্য হয়েছে। নতুন জোট সফল হলে অসুবিধা কোথায়? বরং ভালোই হয়েছে সব ধরনের লোক মিলেই একটা জোট হয়েছে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবি ও লক্ষ্য নিয়ে সংলাপে বসতে সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেয়া হবে বলে জানা গেছে, এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি বা আলোচনায় বসবেন কি না? জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখনও কারও কাছ থেকে কোনো চিঠি পায়নি, আগে পাই তারপর দেখা যাবে। ড. কামাল হোসেন কাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন সেটা আগে দেখতে হবে। যারা মানি লন্ডারিংয়ের সঙ্গে জড়িত, যারা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সঙ্গে জড়িত, যারা এতিমের অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত, যারা দন্ডপ্রাপ্ত এবং সাজাপ্রাপ্ত আসামি তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন ড. কামাল। যারা যুদ্ধাপরাধী তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে, যারা আগুন দিয়ে নিরীহ সাধারণ মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে তারাই এই গ্রুপে রয়েছে। এরা সবাই এক হয়েছে তাদের রাজনীতিটা কোথায়? উল্টো প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রী। ড. কামাল হোসেন তো সংবিধান প্রণেতা, সংবিধান তৈরি করেছেন। তিনিই তো ৭২ এর সংবিধান মানেন না।
সরকারের বিরুদ্ধে বিদেশে নালিশ না করতে সরকারবিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এখানে-সেখানে নালিশ করে কী হবে? যারা নির্বাচনে অংশ নিতে চায়, তারা নালিশ না করে জনগণের কাছে যাক। ২০১৪ সালের নির্বাচন ঠেকানোর জন্য কম চেষ্টা করেনি। একবার বিদেশি বন্ধু নিয়ে এসেও চেষ্টা করেছিল। কিন্তু নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি। তিনি বলেন, আমি ক্ষমতায় থাকাকালে মানুষের উন্নয়নের জন্য কাজ করেছি, কাজ করছি, সারাজীবন কাজ করে যাব। বাংলাদেশের জনগণ যদি চাই তাহলে আবারও ক্ষমতায় আসব এবং জনগণ না চাইলে ক্ষমতায় আসব না। জনগণ যা চাইবে তাই হবে।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সউদী বাদশাহকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তিনি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন এবং অদূর ভবিষ্যতে তিনি বাংলাদেশে আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সউদী বাদশাহ। তিনি বলেন, সউদী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বাংলাদেশে বিনিয়োগের আশা প্রকাশ করেছেন। এ সময় বাংলাদেশের সঙ্গে মোট পাঁচটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। এই সফর বাংলাদেশের স্বার্থে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন প্রধানমন্ত্রী।
সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা কি বলতে পারেন, কী কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে? যারা অ্যাকসিডেন্টের শিকার হলো, তারা রাস্তার কোথায় ছিল? সেটা একটু আমাকে বলুন প্লিজ। গাড়ি যান্ত্রিক ব্যাপার, এটা এমন না যে, হাত দেখালেই থেমে যেতে পারে। সেটা সম্ভব না। গাড়ি থামাতে একটু সময় লাগে।
শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আমার ধারণা ছিল ওই ঘটনার পর মানুষ একটু সচেতন হবে। কিন্তু মানুষ কি সচেতন হয়েছে? কেন হয়নি, সেটার জবাব দিন। আপনাদের পত্রিকায় ছবি দেখেছি, গাড়ি চলছে, গাড়ির ফাঁক দিয়ে মানুষ বের হচ্ছে। তখন কেউ যদি অ্যাকসিডেন্ট করে মারা যায়, কাকে দোষ দেবেন? ফুটপাত, আন্ডারপাস রয়ে গেছে, ফুটওভারব্রিজ আছে। অথচ মানুষ হাত তুলে দৌড় দিয়েই রাস্তা পার হচ্ছে। তখন যদি অ্যাকসিডেন্ট হয়, তখন দোষটা কাকে দেবেন? সচেতনতাটা কার দরকার? আমাদের সবার স্বভাব পরিবর্তন করতে হবে।
পথচারীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা রাস্তায় চলাফেরা করেন, তারা যদি নিজেরাই সচেতন না হন, তাহলে অ্যাকসিডেন্ট কীভাবে ঠেকাবেন? আমি অনুরোধ করবো, কী কারণে অ্যাকসিডেন্ট হয়, তার কারণটা খুঁজে বের করুন। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে যে আন্দোলনটা স্কুল শিক্ষার্থীরা করেছিল, সেখানে কিন্তু ড্রাইভারের দোষ ছিল। শিক্ষার্থীদের ওপর ড্রাইভার গাড়ি তুলে দিয়েছিল। সেটা আমি মানি। কিন্তু এই যে কয়টা অ্যাকসিডেন্ট ঘটেছে, সেসব ঘটনায় পত্রিকায় ছবি দেখেছি, প্রতিটি ঘটনায় রাস্তার মাঝখানে চলন্ত গাড়ির সামনে দৌড় দেওয়া, অথবা রাস্তা পার হওয়ার ঘটনা ঘটছে। সেখানে কাকে দোষ দেবেন?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই যে ৯৪৭টি দুর্ঘটনা ঘটলো, মৃত্যু ঘটলো, সেখানে আপনি দেখুন, পথচারীরা রাস্তার মাঝখান দিয়ে চলছিল, না ফুটওভারব্রিজ দিয়ে চলছিল?
সড়ক পরিবহন আইনের বিরুদ্ধে পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা তো ড্রাইভারদের দোষ দিয়েই খালাস। পথচারীদেরও সচেতনতা দরকার। শ্রমিক নেতাদের পিটুনি দিলেও পথচারীদের রাস্তায় দৌড় দেওয়া থামানো যাবে না। আগে সেটা থামাতে হবে।

সমসাময়িকী

।।যশোর সংসদ সদস্য এড.মনিরুলের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ।।

।।যশোরে সংসদ সদস্য এড.মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ
।।দিঘলিয়া ওয়েব ব্লগ রিপোর্ট।।

২২ অক্টোবর ২০১৮, সোমবার, ৮:৪৫

যশোর ২ আসনের (চৌগাছা-ঝিকরগাছা) সংসদ সদস্য এড. মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে প্রস্তাবিত স্মৃতি স্তম্ভের জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। রোববার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে ঝিকরগাছা এলাকার মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোর্তজা জেম এসব অভিযোগ করেন। গোলাম মোস্তফা জেম একই এলাকার ৭১’এ পাক হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মশিয়ার রহমান হেমের ভাই। তবে সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোর্তজা জেম বলেন, আমার ভাই মাফিজুর রহমান হেম ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আগস্ট মাসে আমার ভাই পাক বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। পরে পাক বাহিনীর নির্মম নির্যাতনে তিনি শহীদ হন। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধু এ খবর জানার পর একটি শোকবার্তা ও দুই হাজার টাকার চেকও পাঠান।

ওই সময় আমার বাবা আবদুর রব সরদার ও তৎকালীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য বর্তমান এমপি মনিরুল ইসলামের পিতা মরহুম আবুল হোসেন মিলে আমার পৈত্রিক পৌনে ছয় শতক জমিতে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে স্মৃতি স্তম্ভের জন্য জায়গা নির্ধারণ করিয়া মাটি ভরাট করেন। তখন থেকে ওই স্থানে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মফিজুর রহমান হেমের নামে বিভিন্ন রকম ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হতে থাকে। বর্তমানে ওই জমির মালিক আমি নিজে। অথচ সমপ্রতি এমপি মনিরুল ইসলাম আবুল হোসেন ফাউন্ডেশনের নামে আমার ভাইয়ের স্মৃতি সৌধের জমিসহ দুই ভূমিহীন মহিলা আনোয়ারা বেগম ও কুলসুম বিবির সরকার প্রদত্ত ২২ শতক জমিসহ বিভিন্ন মালিকের প্রায় তিন একর জমি প্রাচীর দিয়ে ঘিরে দখল করে নিয়েছেন। আমি জমিটি দখলমুক্ত রাখার জন্য জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন সংস্থার নিকট আবেদন করিয়াও কোন ফল পাই নাই। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, এমপির দখলকৃত জমি উদ্ধারের জন্য আইনী প্রক্রিয়া চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে কোথাও প্রতিকার চেয়ে আবেদন করলে এমপির লোকজন হুমকি দিচ্ছে। যেকারণে আমাদের গোটা পরিবার আজ চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। এবিষয়ে তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ভাইয়ের স্মৃতিস্থানটি সংরক্ষন করতে সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেন। সংবাদ সম্মেলনে ভূমিহীন আনোয়ারা বেগম উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সংবাদ সম্মেলনে গোলাম মোর্তজা জেমের বক্তব্য সঠিক নয়। জেম ও আমরা একই বংশের। সে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী লোক।

আন্তর্জাতিক সংবাদ

।।দশমীতে ভারতে ট্রেন দুর্ঘটনা,নিহতের সংখ্যা ৫০ জন।।

দশমীতে ভারতে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা, নিহতের সংখ্যা ৫০ জন

দিঘলিয়া ওয়েব ব্লগ অনলাইন ডেস্ক
২০ অক্টোবর, ২০১৮ ইং ০৫:৩২ মিঃ

ভারতে মর্মান্তিক এক ট্রেন দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ৫০ জন নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত অনেকে। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় ভয়াবহ এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম।

দেশটির সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়, গতকাল শুক্রবার দশমী উপলক্ষে অমৃতসরে হাজারো মানুষ ট্রাকে করে রাবণের মূর্তি পোড়ানো দেখতে জড়ো হয়েছিল। অনুষ্ঠানে ছিল প্রচণ্ড আওয়াজ। পাশেই ছিল রেল লাইন। ওই মুহূর্তে এসে যায় ট্রেন। শব্দের কারণে ট্রেন আসার আওয়াজ কেউ শুনতে পারেনি। এতেই ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ৫০ জন মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদ মাধ্যম। ইতিমধ্যে ১৫ জনের লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ।নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে বলা হয়েছে।

সূত্র: এনডিটিভি, নিউস-১৮, জি নিউজ।

বিনোদন খবর

।।আইয়ুব বাচ্চুর জীবনে শেষ কনসার্ট রংপুরে -তার গাওয়া গান সত্যি হলো তার-ই-জীবনে।।

আইয়ুব বাচ্চুর জীবনের শেষ কনসার্ট রংপুরে

দিঘলিয়া ওয়েব ব্লগ অনলাইন রিপোর্ট
তারিখ : অক্টোবর, ১৯, ২০১৮

গত মঙ্গলবার আইয়ুব বাচ্চু তার জীবনের শেষ কনসার্ট করেন রংপুরে। সেখানে তিনি গেয়েছিলেন- ‘আর বেশি কাঁদালে উড়াল দেব আকাশে’। তার গানের কথাই যেন সত্যি হল। মাত্র একদিনের ব্যবধানে তিনি আকাশে উড়াল দিয়ে চলে গেলেন। এলআরবির পক্ষ থেকে জানায়, গত মঙ্গলবার রংপুরে কনসার্ট ছিল আইয়ুব বাচ্চুর। কনসার্ট শেষে গত বুধবার দুপুরে বাড়ি ফেরেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয় এ সংগীতশিল্পীর। অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কোটি মানুষের মন জয় করা এই মানুষটি শেষ ঠিকানা হবে চট্টগ্রামের এনায়েতবাজারের পারিবারিক কবরস্থানে। শনিবার মায়ের কবরেই শায়িত হবেন তিনি। এর আগে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আইয়ুব বাচ্চুর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে জাতীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। সেখান থেকে জুমার নামাজের সময় নিয়ে যাওয়া হবে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে। বাদ জুমা প্রথম জানাজা শেষে মরদেহ রাখা হবে স্কয়ার হাসপাতালের হিমাগারে। একই দিন রাতে অস্ট্রেলিয়া থেকে আইয়ুব বাচ্চুর মেয়ে রাজকন্যা ঢাকায় পৌঁছালে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে চট্টগ্রামের এনায়েতবাজারে।

বিনোদন খবর

।।”রুপালী গিটার” আইয়ুব বাচ্চু এবং কিছু না বলা কথা…!।।

রূপালী গিটার’আইয়ুব বাচ্চু এবং কিছু না বলা কথা !

দিঘলিয়া ওয়েব ব্লগ অনলাইন রিপোর্ট
১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ইং ০২:২৪ মিঃ

‘এই রূপালী গিটার ফেলে
একদিন চলে যাব দূরে, বহুদূরে
সেদিন অশ্রু তুমি রেখো
গোপন করে’’

শিল্পী তার কথা মতো চলে গেছেন। রূপালী গিটার তার হাতে আর কোনো দিন খেলা করবে না। ভক্তদের অন্তরে আঘাত করবে না ‘ছয় তারের’ ঝংকার। রূপালী গিটারে হাত পড়বে না জাদুকরের। আজ বৃহস্পতিবার সকালে আচমকা এক সংবাদ এসে জানালো, থেমে গেছে ‘রূপালী গিটার’।

চলে গেলেন দেশের সংগীত জগতের উজ্জল নক্ষত্র আইয়ুব বাচ্চু। হৃদরোগের আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর স্কয়ার আজ সকাল ১০টায় হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন কোটি ভক্তের নয়নের মনি (ইন্না…রাজিউন)।

তিনি একাধারে গায়ক, লিডগিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার ও প্লেব্যাক শিল্পী ছিলেন। এল আর বি ব্যান্ড দলের লিড গিটারিস্ট এবং ভোকাল বাচ্চু বাংলাদেশের ব্যান্ড জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের একজন। এর আগে তিনি দশ বছর সোলস ব্যান্ডের সাথে লিড গিটারিস্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

বাচ্চুর সঙ্গীতজগতে যাত্রা শুরু হয় ফিলিংস ব্যান্ডের সাথে ১৯৭৮ সালে। তাঁর কণ্ঠ দেয়া প্রথম গান ‘হারানো বিকেলের গল্প’। ১৯৮০ থেকে ১৯৯০ সালে তিনি সোলস ব্যান্ডের সাথে যুক্ত ছিলেন। ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত রক্তগোলাপ আইয়ুুব বাচ্চুর প্রথম প্রকাশিত একক অ্যালবাম। এই অ্যালবামটি তেমন একটা সাফল্য পায়নি। সফলতার শুরু তার দ্বিতীয় একক অ্যালবাম ‘ময়না’র (১৯৮৮) মাধ্যমে।

১৯৯১ সালে বাচ্চু এল আর বি ব্যান্ড গঠন করে। এই ব্যান্ডের সাথে তার প্রথম ব্যান্ড অ্যালবাম এল আর বি প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। এটি বাংলাদেশের প্রথম দ্বৈত অ্যালবাম। এই অ্যালবামের ‘শেষ চিঠি কেন এমন চিঠি’, ‘ঘুম ভাঙা শহরে’, ‘হকার’ গানগুলো জনপ্রিয়তা লাভ করে। পরে ১৯৯৩ ও ১৯৯৪ সালে তার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যান্ড অ্যালবাম ‘সুখ’ ও ‘তবুও’ বের হয়। সুখ অ্যালবামের ‘সুখ’, ‘চলো বদলে যাই’, ‘রূপালি গিটার’, ‘গতকাল রাতে’ উল্লেখযোগ্য গান। ‘চলো বদলে যাই’ বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতে অন্যতম জনপ্রিয় একটি গান। গানটির কথা লিখেছেন ও সুর করেছেন বাচ্চু নিজেই। ১৯৯৫ সালে তিনি বের করেন তৃতীয় একক অ্যালবাম কষ্ট। সর্বকালের সেরা একক অ্যালবামের একটি বলে অবিহিত করা হয় এটিকে। এই অ্যালবামের প্রায় সবগুলো গানই জনপ্রিয়তা পায়। বিশেষ করে ‘কষ্ট কাকে বলে’, ‘কষ্ট পেতে ভালোবাসি’, ‘অবাক হূদয়’, ও ‘আমিও মানুষ’। একই বছর তার চতুর্থ ব্যান্ড অ্যালবাম ঘুমন্ত শহরে প্রকাশিত হয়। তিনি অনেক বাংলা ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন। ‘অনন্ত প্রেম তুমি দাও আমাকে’ বাংলা ছবির অন্যতম একটি জনপ্রিয় গান। এটি তাঁর গাওয়া প্রথম চলচ্চিত্রের গান।

২০০৯ সালে তার একক অ্যালবাম বলিনি কখনো প্রকাশিত। ২০১১ সালে এল আর বি ব্যান্ড থেকে বের করেন ব্যান্ড অ্যালবাম যুদ্ধ। এই অ্যালবামে ১০টি গান রয়েছে। ছয় বছর পর তার পরবর্তী একক অ্যালবাম ‘জীবনের গল্প’ (২০১৫) বাজারে আসে। এই অ্যালবামে ১০টি গান রয়েছে। গানের কথা লিখেছেন সাজ্জাদ হোসাইন এবং সুর ও সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন আইয়ুব বাচ্চু নিজে।

গিটারে তিনি সারা ভারতীয় উপমহাদেশে বিখ্যাত। জিমি হেন্ড্রিক্স এবং জো স্যাট্রিয়ানীর বাজনায় তিনি দারুনভাবে অনুপ্রাণিত। আইয়ুব বাচ্চুর নিজের একটি স্টুডিও আছে। ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত এই মিউজিক স্টুডিওটির নাম এবি কিচেন। তিনি ২০১০ সালে ঈদের জন্য নির্মিত ট্রাফিক সিগন্যাল ও হলুদ বাতি শিরোনামের নাটকে অভিনয় করেন।

বিনোদন খবর, সমসাময়িকী

।।আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক বার্তা।।

আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শোক বার্তা

দিঘলিয়া ওয়েব ব্লগ অনলাইন ডেস্ক
১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ইং ০২:১২ মিঃ

কিংবদন্তি সঙ্গীত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চুর মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সকালে নিজের বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরী বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, আইয়ুব বাচ্চুকে হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।

আইয়ুব বাচ্চু ১৯৬২ সালের ১৬ আগস্ট চট্টগ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে গায়ক, লিডগিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার, প্লেব্যাক শিল্পী। এলআরবি ব্যান্ড দলের লিড গিটারিস্ট এবং ভোকাল বাচ্চু বাংলাদেশের ব্যান্ড জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের একজন। এর আগে তিনি দশ বছর সোলস ব্যান্ডের সাথে লিড গিটারিস্ট হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

সঙ্গীতজগতে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ফিলিংসের মাধ্যমে ১৯৭৮ সালে। অত্যন্ত গুণী এই শিল্পী তাঁর শ্রোতা-ভক্তদের কাছে এবি নামেও পরিচিত। তাঁর ডাক নাম রবিন। মূলত রক ঘরানার কণ্ঠের অধিকারী হলেও আধুনিক গান, ক্লাসিকাল সঙ্গীত এবং লোকগীতি দিয়েও শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছেন।

বিনোদন খবর, সমসাময়িকী

।।শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু’র চিরকালের জন্য বিদায়।।

শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু আজ সকাল ১০টায় মারা গেছেন
দিঘলিয়া ওয়েব অনলাইন রিপোর্ট

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ১০:৪৩মিঃ

বাংলাদেশের কিংবদন্তি ব্যান্ড সংগীত শিল্পী আইয়ুব বাচ্চু আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর।
আজ সকালে নিজ বাসায় তাঁকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আইয়ুব বাচ্চু ছিলেন একাধারে গায়ক, গিটারিস্ট, গীতিকার, সুরকার, প্লে-ব্যাক শিল্পী। এলআরবি (লাভ রানস ব্লাইন্ড) ব্যান্ডের লিড গিটারিস্ট ও ভোকাল আইয়ুব বাচ্চু বাংলাদেশের ব্যান্ড জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের একজন।

তথ্য প্রযুক্তি

।।ইউটিউব সার্ভারের সমস্যা সমাধান করেছেন কতৃপক্ষ।।

ইউটিউব সার্ভারের সমস্যা ঠিক হয়েছে
দিঘলিয়া ওয়েব অনলাইন রিপোর্ট

১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ১৫:৪২
জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউব ব্যবহারে সমস্যার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের ব্যবহারকারীরা। গত রাতেই ইউটিউবের সাইটে প্রবেশের পর কোনো কন্টেন্ট পর্দায় আসছে না বা কোনো সাজেশন দেওয়া হচ্ছে না বলে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ করেছেন ব্যবহারকারীরা।
পরে তা ঠিক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউটিউব।
বাংলাদেশ সময় গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে এ সমস্যার মুখে পড়ে ব্যবহারকারীদের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ। ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করেন, শুধু ইউটিউব-ই নয় তাদের টিভি, মিউজিক কোনো কিছুরই সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। ওয়েবসাইটে প্রবেশের পর স্বাভাবিক সময়ে যেসব ফিচার বা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান পর্দায় আসতো, তার কিছুই আসছে না। বাংলাদেশেও অনেক ব্যবহারকারী ইউটিউব ব্যবহারে ভোগান্তির কথা জানিয়েছেন।

অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুতই এ সমস্যা থেকে উত্তরণে কাজ শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউটিউব কর্তৃপক্ষ।

ইউটিউবের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত রাতে ফেসবুকের সার্ভারে সমস্যা হয়েছিল। পরবর্তীতে সে সমস্যা ঠিক করা হয়েছে।

একইসঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে সেবা স্বাভাবিক হওয়ার পর তা জানিয়ে দেওয়া হবে বলে কোম্পানির পক্ষ থেকে ব্যবহারকারীদের আশ্বস্ত করা হয়েছে।
সার্ভারের সমস্যা দূর করা হলেও সমস্যার উৎপত্তি কোথায় তা নির্ণয় করতে পারেনি বলে জানিয়েছে ইউটিউব।

অর্থনীতি সংবাদ

।।দুর্গাপূজার কারণে বেনাপোলে আমদানি-রপ্তানি বানিজ্য বন্ধ।।

বেনাপোলে আমদানি-রপ্তানি বানিজ্য বন্ধ -কাঁচা মালের সংকট

দিঘলিয়া ওয়েব ব্লগ রিপোর্ট

১৮ অক্টোবর ২০১৮, বৃহস্পতিবার, ১০:২৮

বাংলাদেশ এবং ভারতের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে চারদিন আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকবে। পূজার লম্বা ছুটির কারণে অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানে কাঁচামালের সংকট দেখা দিতে পারে। তবে এ ছুটিতে বেনাপোল কাস্টম হাউজ ও বন্দরে পণ্য খালাস এবং বাংলাদেশ ভারতের মধ্যে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলে বন্দর সূত্রে জানা গেছে। ভারতের পেট্রাপোল বন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী জানান, আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতে মঙ্গলবার (১৬ই অক্টোবর) থেকে শুক্রবার (১৯শে অক্টোবর) পর্যন্ত চার দিন ছুটি থাকায় এ সময় পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে বেনাপোল বন্দরের সঙ্গে সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকবে। ২০শে অক্টোবর শনিবার সকাল থেকে বাণিজ্য স্বাভাবিক হবে। বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা জানান, পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে টানা চার দিন আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকলেও কাস্টম ও বন্দরে কাজকর্ম স্বাভাবিক থাকবে। বেনাপোল কাস্টম চেকপোস্ট কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, মঙ্গলবার (১৬ই অক্টোবর) থেকে আগামী শুক্রবার (১৮ই অক্টোবর) পর্যন্ত টানা চার দিন বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি হবে না বলে ভারতীয় কাস্টমস ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা জানিয়ে দিয়েছেন। তবে বেনাপোল বন্দরে পণ্য নিয়ে আসা ভারতীয় খালি ট্রাক ফিরে যেতে পারবে।

বেনাপোল চেকপোস্ট পুলিশ ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার জানান, শারদীয় দুর্গোৎসবের ছুটিতে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও স্বাভাবিক থাকবে যাত্রী চলাচল।

তথ্য প্রযুক্তি, সমসাময়িকী

।।কি ভাবে অনলাইনে জমির খতিয়ান/পরচা পাবেন-জেনে নিন।।

কিভাবে অনলাইনে জমির খতিয়ান/পর্চা পাবেন? জেনে রাখুন কাজে লাগবে
১৭ অক্টোবর , ২০১৮ রাত ১০:৪৪মি.

দিঘলিয়া ওয়েব ব্লগ রিপোর্ট

————————————————————
বর্তমানে চলছে ডিজিটাল যুগ।এই যুগে আপনি অনেক কিছুই হাতের নাগালে পাবেন।
বিশেষজ্ঞের মতে , এই যুগ মানুষকে দিন দিন অলস করে দিচ্ছে।আসলে প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ আরামদায়ক করে তুলেছে।এখন আপনি যা চান তাই ঘরে বসে অনলাইনে সম্ভব।আসলে প্রযুক্তীর ব্যবহার কারনে আমাদের সময় ও কষ্ট দুইটাই লাঘব করে দিয়েছে।দেশের যেকোন নাগরিক যেকোন জায়গা থেকে ব্যক্তিগত কিংবা ক্রয় করতে ইচ্ছুক যে কোন জমির বিভিন্ন রেকর্ড এখন খুব সহজেই
অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে পারবেন।
এসএ (SA), সিএস (CS), বিআরএস (BRS) নকল / পর্চা/ খতিয়ান/সার্টিফাইড কপি অনলাইনে আবেদন করে সংগ্রহ করা যাবে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলার প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ডরুম থেকে।জমির খতিয়াল তিনভাবে তোলা যাবে। যেমনঃ
১। জেলা ই-সেবাকেন্দ্রঃজেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা ই-সেবাকেন্দ্রের মাধ্যমে ওয়ানস্টপ সার্ভিস গ্রহন করা যায়।
২। ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্রঃদেশের বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে অবস্থিত ইউনিয়ন পরিষদ সেবা কেন্দ্র (ইউআইএসসি) থেকে নাগরিকগন আবেদন করতে পারবেন।সেক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত কোর্ট ফি ছাড়াও জেলা প্রশাসন নির্ধারিত প্রসেসিং ফি দিতে হবে।
৩। জেলা ওয়েব পোর্টালঃজেলা ওয়েব পোর্টালে নির্ধারিত আবেদন ফরম ফিলআপ করে ব্যক্তি নিজেই জমির খতিয়ান সংগ্রহ করতে পারে। জেলা ওয়েব পোর্টাল পাবার জন্য আপনাকে http://www.districtname.gov.bd এই ঠিকানায় যোগাযোগ করতে হবে। সেখানে জমির খতিয়ানের জন্য আবেদন বাটনে ক্লিক করলেই সংশ্লিষ্ট ফর্মটি পাওয়া যাবে।জমির খতিয়ানের জন্য আবেদন করা যায়
দু’ভাবেঃ
ক) জরুরি ডেলিভারীঃসময় লাগে সাধারনত ০৩ কার্যদিবস |
খ) সাধারন ডেলিভারীঃ সময় লাগে লাগে ৭-১০দিন।
*খতিয়ান(পর্চা)টি ডাকযোগে পেতে নির্ধারিত কলাম পূরণ করতে হবে।আবেদনের সাথে নির্ধারিত কোর্ট ফি জেলা প্রশাসকের সংশ্লিষ্ট ই-সেবাকেন্দ্র থেকে ক্রয় করে আবেদনপত্রের সাথে যুক্ত করে জেলা সেবা কেন্দ্রে জমা দেওয়া যাবে।এছাড়াও আবেদনের সাথে কোর্ট ফি সংযুক্ত করে ডাকযোগে জেলা ই-সেবাকেন্দ্রে জমা দেওয়া যাবে।
সংশ্লিষ্ট খরচঃখতিয়ান উত্তোলন ফিঃ জরুরিঃ কোর্ট ফি-২০ টাকা, ডেলিভারী ফি-২ টাকা।সাধারণ কোর্ট ফি- ১০ টাকা, ডেলিভারী ফি- ২ টাকা।
সূত্র: ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়
অনলাইনে জমির খতিয়ান বা ই-পর্চা তোলার প্রক্রিয়া।দেশের যে কোন নাগরিক যে কোন জায়গা হতে তার অথবা ক্রয় করতে ইচ্ছুক জায়গা জমির বিভিন্ন রেকর্ড যেমন এসএ (SA), সিএস (CS), বিআরএস (BRS) নকল /
পর্চা/ খতিয়ান/ সার্টিফাইড কপি এখন খুব সহজে অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেকর্ডরুম থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।এর ফলে একদিকে জনগণ যেমন কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়াই দ্রুত সেবা পাচ্ছেন, অন্য দিকে সরবরাহকৃত রেকর্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাইজ হয়ে যাচ্ছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও এটুআই প্রোগ্রামের যৌথ উদ্যেগে ৬৪ জেলার রেকর্ড রুমের সকল এস এ (SA), সিএস (CS), বিআরএস(BRS) ও খতিয়ান কপি ডিজিটাইজ করা হচ্ছে।এতে প্রায় ৪.৫ কোটি খতিয়ান রেকর্ড ডিজিটাইজ হবে। বর্তমানে প্রায় ২৩ লক্ষ ২০ হাজার রেকর্ড অনলাইনে প্রদান করা হয়েছে।এর মধ্যে প্রায় ৩ লক্ষ ৯৫ হাজার রেকর্ড ইউআইএসসি থেকে প্রদান করা হয়েছে।
খতিয়ান (পর্চা) আপনি ডাকযোগে পেতে নির্ধারিত কলাম সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে।আবেদনের সাথে নির্ধারিত কোর্টফি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট জেলা ই-সেবা কেন্দ্র থেকে ক্রয় করে আবেদনের সাথে সংযুক্ত করে জেলা
সেবা কেন্দ্রে জমা দেয়া যাবে। এছাড়া আবেদনের সাথে নির্ধারিত কোর্টফি সংযুক্ত করে ডাকযোগে জেলা ই-সেবা কেন্দ্রে জমা দিতে পারেন।
এছাড়া স্ট্যাম্প ভেন্ডর অথবা অনুমোদিত ইউআইএসসি থেকেও কোর্ট ফি ক্রয় করা যাবে।আপনার আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা এসএমএস এর মাধ্যমে জানার জন্য আপনার বর্তমান মোবাইল নম্বর প্রদান করতে হবে।খতিয়ান উত্তোলনের সাধারণ কোর্টফি ১০ টাকা ডেলিভারী ফি ২ টাকা, আর জরুরী কোর্ট ফি ২০ টাকা ডেলিভারী ফি ২ টাকা।
জমির খতিয়ান তোলার প্রক্রিয়াঃ

ক) জেলা ই-সেবা কেন্দ্রঃজেলা প্রশাসকের জেলা ই-সেবা কেন্দ্রের মাধ্যমে ওয়ানস্টপ সার্ভিস গ্রহণ করা যায়।
খ) ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্রঃদেশের বিভিন্ন ইউনিয়েনর পরিষদে অবস্থিত ইউআইএসসি থেকে নাগরিকগণ আবেদন করতে পারবেন।
সেক্ষেত্রে ইউআইএসসি উদ্যেক্তাগণ সরকার নির্ধারিত কোর্ট ফি ছাড়াও জেলা প্রশাসন হতে নির্ধারিত হারে প্রসেসিং ফি নিবেন।
গ) জেলা ওয়েব পোর্টালঃজেলা তথ্য বাতায়নের সংশ্লিষ্ট জেলার ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে ব্যক্তি নিজেই নির্ধারিত ফর্মে আবেদন করতে পারবেন। জেলা ওয়েব পোর্টাল পাওয়া জন্য আপনাকে

http://www.bangladesh.gov.bd/ এই ঠিকানায় গিয়ে জেলা বাতায়নে যেতে হবে।এরপর নিজ নিজ জেলার পোর্টালে গেলে ডান দিকের নিচে নকলের জন্য আবেদন এ ক্লিক করতে হবে।
এর পর একটি ফরম আসবে সেটি সঠিকভাবে ফিলাপ করে দালিখ বাটনে ক্লিক করার পরপ্রাপ্ত রশিদ প্রিন্ট করেকোর্ট ফি লাগিয়ে জেলা ই–সেবা কেন্দ্র পৌঁছে দিন।ফরমটি প্রিন্ট করতে না পারলে যে কোন সাদা কাগজেপ্রয়োজনীয় কোর্ট ফি যুক্ত করে জেলা সেবা কেন্দ্রে পৌছে দিন।

দিঘলিয়া ওয়েব ব্লগ টিউব

Watch “MOROL MD.ELIUS HOSSAIN” on YouTube

https://www.youtube.com/channel/UCIYPF0aUhGfuTfcunJfu32A

➤আপনি উক্ত চ্যানেলে সার্চ করলে আমার ভিডিও দেখতে পাবেন, আশাকরি আনন্দ পাবেন -মোড়ল মোঃ ইলিয়াস হুসাইন

জাতীয় সংবাদ

।।খুলনার স্বাস্থ্য বিভাগের দু’জনের শাস্তিমূলক বদলীঃফিরে পাওয়ার তদ্বির।।

শাস্তিমূলক বদলী হওয়া খুলনার স্বাস্থ্য বিভাগের দু’জন কর্মচারীর স্বপদে ফিরে যাওয়ার তদ্বির
অক্টোবর ১৭, ২০১৮

মাঠ পর্যায়ে কর্মরতদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

দিঘলিয়া ওয়েব ব্লগ রিপোর্ট

শাস্তিমূলক বদলী হওয়া খুলনার স্বাস্থ্যবিভাগের দু’কর্মচারী আবারো স্ব-পদে ফিরে যাবার তদ্বির করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
প্রাপ্ত অভিযোগে জানা যায়, আর্থিক অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ায় জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত দু’জন কর্মচারীকে সম্প্রতি শাস্তিমূলক বদলী করা হয়।

প্রাপ্ত অভিযোগে জানা যায়, সরকারি নিয়ম-নীতি উপেক্ষা করায় বটিয়াঘাটা উপজেলার দু’জন স্বাস্থ্য সহকারী যথাক্রমে মো: রেজওয়ান-উল রাজ এবং তপতী সরকারকে সম্প্রতি বদলী করা হয়। এদের একজনকে পরিসংখ্যানবিদ ও অপরজনকে ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব দেয়ার পর থেকে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ ব্যাপারে বটিয়াঘাটার মাঠ পর্যায়ে কর্মরত সিএইচসিপি, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, অফিস সহকারীসহ সংশ্লিষ্টদের ভিত্তিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা: রাম চন্দ্র সাহা গত ১২ জুলাই কৈফিয়ত তলব করেন। এর প্রেক্ষিতে জেলা সিভিল সার্জন ডা: এ,এস,এম আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত গত ১০ সেপ্টেম্বরের অপর এক পত্রেও উক্ত দু’কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। একইসাথে তাদেরকে হয় স্ব-পদে পদায়ন অথবা অন্যত্র বদলীর আবেদন জানিয়ে তিনি বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কাছে আবেদন করেন। স্বাস্থ্য পরিচালক দপ্তরের গত ১২ সেপ্টেম্বরের এক আদেশে পরিসংখ্যানবিদ(চ:দা:) মো: রেজওয়ান-উল রাজকে পাইকগাছায় এবং ক্যাশিয়ার তপতী সরকারকে তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলী করা হয়। এর মধ্যে ক্যাশিয়ার তপতী সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দকৃত অর্থ ভুয়া স্বাক্ষর করে তুলে নেয়াসহ নানা অভিযোগের প্রমাণ রয়েছে। বর্তমানে আবারো স্বপদে ফিরে যাবার জন্য তিনি বিভিন্ন মহলে তদ্বির করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ

।।ফ্রান্সে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২।।

ফ্রান্সে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১২-বিবিসি

দিঘলিয়া ওয়েব ব্লগ রিপোর্ট
১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ইং ০০:০০ মিঃ

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে হঠাত্ বন্যায় গতকাল শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। বন্যায় বেশকিছু ঘরবাড়ি এবং কয়েকটি গাড়ি ভেসে গেছে। এরকম পরিস্থিতিতে ওই এলাকায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এলাকায় দুটি খাল এবং ওউদি নদীর মধ্যবর্তী পর্যটন নগরী ত্রেবেসের বাসিন্দারা এতে সবচে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাত মাস পর রাতের বেলা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিপাতে আকস্মিক এ বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে ওইসব এলাকার অনেকে বন্যার কারণে ঘুম থেকে জেগে ওঠে। ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কয়েক হাজার মানুষকে ঘর ছাড়তে হয়েছে। বহু গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গেছে। স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। যারা বাড়িতে অবস্থান করছে তাদের বাড়ি থেকে না বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বন্যার কারণে দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তার মন্ত্রিসভা রদবদলের কার্যক্রম স্থগিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এডুয়ার্ডো ফিলিপ্পে এরই মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকা সফর করেছেন। সেখানে তিনি জরুরিসেবা কার্যক্রম তদারকি করেছেন। সাড়ে তিনশ উদ্ধারকর্মী ওইসব এলকায় কাজে নেমেছে। এ বছরটিকে ১৯০০ সালের পর থেকে এ যাবত্কালের সবচে উষ্ণতম বছর হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর।

তথ্য প্রযুক্তি

।।চলে গেলেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পল আ্যালেন।।

চির বিদায় নিলেন মাইক্রোসফটের সহ- প্রতিষ্ঠাতা পল আ্যালেন

দিঘলিয়া ওয়েব ব্লগ রিপোর্ট
১৭ অক্টোবর, ২০১৮ ইং ০০:০০ মিঃ

হঠাত্ করেই চলে গেলেন মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা পল অ্যালেন। গত সোমবার তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। পল অ্যালেন একধরনের ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। ২০০৯ সাল থেকে এই রোগের চিকিত্সা নিয়েছিলেন অ্যালেন। মাত্র দুই সপ্তাহ আগে রোগটি আবারো দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। তার চিকিত্সক অবশ্য চিকিত্সার ব্যাপারে ‘আশাবাদী’ ছিলেন। কিন্তু মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই মারা গেলেন তিনি। গতকাল সোমবার বিকেলে পল অ্যালেনের বোন জোডি তার মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমের কাছে নিশ্চিত করেন বলে বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়। ওই বিবৃতিতে জোডি বলেন, প্রতিটি ক্ষেত্রেই অসাধারণ ব্যক্তি ছিলেন পল। তার পরিবার এবং বন্ধুরা তার বুদ্ধিমত্তা, উষ্ণতা, ভালোবাসা, উদারতা দেখার সুযোগ লাভ করেছিল। পল অ্যালেনের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন মাইক্রোসফটের আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। এক শোকবার্তায় তিনি বলেন, ‘বহুদিনের প্রিয় এই বন্ধুর মৃত্যুতে ভীষণ আঘাত পেয়েছি আমি। সে না থাকলে ব্যক্তিগত কম্পিউটিং সম্ভব হতো না।’ বিল গেটস ও পল অ্যালেন—দুজনের হাতে বিশ্বের শীর্ষ সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট করপোরেশনের গোড়াপত্তন হয়। ভাবনাটা প্রথম উদয় হয় অ্যালেনের মাথাতেই। পপুলার ইলেকট্রনিকস ম্যাগাজিনের জানুয়ারির, ১৯৭৫ সংখ্যার প্রচ্ছদে প্রথম মাইক্রোকম্পিউটার হিসেবে পরিচিত অ্যালটেয়ার ৮৮০০-এর ছবি ছাপা হয়। সেটা দেখার পর পল অ্যালেন তার বাল্যবন্ধু বিল গেটসকে কম্পিউটারটির জন্য বেসিক প্রোগ্রামিং ভাষা তৈরির ইচ্ছার কথা জানান। অ্যালটেয়ার ৮৮০০-এর প্রস্তুতকারক মাইক্রো ইনস্ট্রুমেন্টেশন অ্যান্ড টেলিমেট্রি সিস্টেমসের (এমআইটিএস) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটি নমুনা দেখানোর জন্য তাদের ডেকে পাঠায়। এরপর তারা দুজনে মিলে তড়িঘড়ি করে কম্পিউটারটির জন্য একটি প্রোগ্রামিং ভাষা তৈরি করেন। এমআইটিএস তাদের প্রোগ্রামিং ভাষা কিনতে সম্মত হলে ১৯৭৫ সালের ৪ এপ্রিল তারা প্রতিষ্ঠা করেন মাইক্রোসফট যা বর্তমানে মাইক্রোসফট কর্পোরেশন নামে পরিচিত। ( ডিওবি তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক )